গণমাধ্যম ফ্রেইমিং: কীভাবে আপনার অজান্তেই বিশ্বকে দেখার ভঙ্গি বদলে দিচ্ছে

webmaster

언론보도 프레이밍 이론 - **Image Prompt 1: The Dual Lens of News Reporting**
    Generate an image depicting a bustling town ...

বন্ধুরা, আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, একই খবর বা ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কেন এত ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়? যখন আমরা বিভিন্ন চ্যানেলে একই বিষয় দেখি, তখন মনে হয় যেন দুটো সম্পূর্ণ আলাদা গল্প দেখছি!

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এই সামান্য পরিবর্তনগুলো আমাদের মনে একটি বিষয়ের প্রতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারণা তৈরি করে দিতে পারে। বিশেষ করে এখনকার দিনে, যখন ভুয়া খবর আর তথ্যের ছড়াছড়ি, তখন এটা বোঝা আরও বেশি জরুরি। সংবাদ মাধ্যমগুলো আসলে আমাদের চিন্তাভাবনাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, সেটা জানা থাকলে আমরা আরও সচেতনভাবে খবর দেখতে পারবো। চলুন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে আমরা আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

সংবাদ পরিবেশনার লুকানো কারিগর: তারা কীভাবে গল্প বলে?

언론보도 프레이밍 이론 - **Image Prompt 1: The Dual Lens of News Reporting**
    Generate an image depicting a bustling town ...

কেন একই খবর ভিন্ন হয়?

শব্দ চয়ন আর ঘটনার বিন্যাস

বন্ধুরা, আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, একটি ঘটনার খবর বিভিন্ন চ্যানেলে দেখলে কেন এতটাই আলাদা মনে হয়? আমার তো মনে হয়, তারা যেন একই ঘটনাকে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেয়, একটা নাটকের মতো!

ধরুন, একটা খেলার খবর দেখছেন, এক চ্যানেলে বলছে ‘বিস্ফোরক জয়’, তো আরেক চ্যানেলে বলছে ‘প্রতিপক্ষের দুর্বলতার সুযোগ’। এই যে শব্দের কারসাজি, এটাই আসল খেলা। আমি নিজে দেখেছি, যখন একটা সাধারণ ঘটনা ঘটে, তখন নিউজ চ্যানেলগুলো সেটার কোন দিকটা তুলে ধরবে, কোন কথাগুলো বলবে আর কোনটা বাদ দেবে, সেটা নিয়ে বেশ মাথা ঘামায়। এমনকি, ঘটনার গুরুত্ব বোঝানোর জন্য তারা কোন শব্দ ব্যবহার করবে, সেটাও কিন্তু আগে থেকে ঠিক করা থাকে। এটা অনেকটা রান্নার মতো, একই উপাদান দিয়ে এক শেফ একরকম স্বাদ আনেন, অন্য শেফ আরেকরকম। এই লুকানো কারিগররা আমাদের অজান্তেই একটা ঘটনার প্রতি আমাদের মনোভাব তৈরি করে দেন। তাদের শব্দচয়ন, ঘটনার ক্রম, এমনকি একটা সাধারণ ছবি বা ভিডিওর কোন অংশ দেখানো হবে, সবকিছুই আমাদের উপর বিশাল প্রভাব ফেলে। আমি একবার একটা জনসভা নিয়ে দুটো ভিন্ন চ্যানেলের খবর দেখেছিলাম। এক চ্যানেলে ভিড়টাকে বিশাল আর উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল, আরেক চ্যানেলে সেটাকে ছোট আর নিস্তেজ মনে হচ্ছিল। তখন বুঝলাম, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল আর বর্ণনার ধরন কতটা পরিবর্তন আনতে পারে!

এটা সত্যিই খুব অবাক করার মতো বিষয়।

আপনার ভাবনাকে আকার দেওয়া: শিরোনাম আর ছবির জাদুকরী প্রভাব

প্রথমেই যা দেখি, সেটাই কি সব?

আবেগ আর মনস্তত্ত্বের খেলা

আমরা যখন কোনো খবর পড়ি বা দেখি, সবার আগে আমাদের চোখে পড়ে কী বলুন তো? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন – শিরোনাম আর ছবি! এই দুটো জিনিস এতটাই শক্তিশালী যে, একটা খবরের পুরো মেজাজটাই বদলে দিতে পারে। একটা কৌতূহল জাগানো শিরোনাম অথবা একটি শক্তিশালী ছবি আমাদের মনে এমন একটা প্রভাব ফেলে যে, আমরা খবরের ভেতরের বিস্তারিত না পড়েই একটা প্রাথমিক ধারণা তৈরি করে ফেলি। আমি তো নিজে বহুবার এই ফাঁদে পড়েছি। এক সময় দেখেছি, একটি সামান্য দুর্ঘটনার খবরকে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ বলে শিরোনাম দিয়ে এমন একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র!

আর ভেতরে গিয়ে দেখি, ঘটনাটা ততটা গুরুতর ছিল না। এটা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, যেখানে আমাদের আবেগগুলোকে কাজে লাগানো হয়। সংবাদ মাধ্যমগুলো জানে, আমরা দ্রুত তথ্য পেতে চাই এবং আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য শিরোনাম আর ছবির বিকল্প নেই। তারা আমাদের মস্তিষ্কের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের মনে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতি পূর্বনির্ধারিত ধারণা তৈরি করে দেয়। আপনারা যদি একটু খেয়াল করেন, দেখবেন একই খবর বিভিন্ন দৈনিকে বা অনলাইনে ভিন্ন শিরোনাম ও ছবি দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, আর প্রতিটাতেই আলাদা একটা আবেদন থাকে। আমার মনে আছে, একবার একটা ছোটখাটো অর্থনৈতিক সংস্কারের খবরকে এক পত্রিকা ‘অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত’ লিখেছিল আর আরেকটা ‘জনগণের ওপর নতুন চাপ’ শিরোনামে প্রকাশ করেছিল, দুটো খবরের সঙ্গেই একদম বিপরীতমুখী ছবি ছিল।

Advertisement

কোন দিকে ঝুঁকে আছে পাল্লা? পক্ষপাতিত্ব বোঝার উপায়

নিষ্ক্রিয়তা নাকি সক্রিয়তা: পক্ষপাতিত্বের লক্ষণ

কে কী বলছে, আর কেন বলছে?

সংবাদ মাধ্যমে পক্ষপাতিত্ব একটি খুবই সূক্ষ্ম বিষয়, যা সহজে ধরা যায় না। কিন্তু একটু মনোযোগ দিলে ঠিকই এর লক্ষণগুলো বোঝা যায়। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, কিছু সংবাদ মাধ্যম একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল, আবার কিছু অন্য কোনো আদর্শের প্রতি। এটা শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক বা অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দেখা যায়। আমার অভিজ্ঞতা বলে, যখন কোনো সংবাদ মাধ্যমে শুধু একটি পক্ষের মতামতকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়, অন্য পক্ষের যুক্তিগুলো তুলে ধরা হয় না বা সেগুলোকে খাটো করে দেখানো হয়, তখনই বুঝতে হবে সেখানে পক্ষপাতিত্বের গন্ধ আছে। ধরুন, একটা বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে যখন কেবল সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থার বক্তব্যকে বারবার হাইলাইট করা হয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বা ভিন্ন মতকে এড়িয়ে যাওয়া হয়, তখন সেটা পক্ষপাতিত্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

প্রভাবের ধরন (Type of Influence) সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (Brief Explanation) আপনার অভিজ্ঞতা (Your Experience)
শব্দ চয়ন (Word Choice) নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে ঘটনার প্রতি মনোভাব তৈরি করা। একই ঘটনাকে ‘গণবিক্ষোভ’ বনাম ‘সহিংসতা’ হিসেবে উপস্থাপন।
শিরোনাম ও ছবি (Headline & Image) আকর্ষণীয় শিরোনাম এবং নির্দিষ্ট ছবি ব্যবহার করে প্রথম ধারণা তৈরি। একটি ঘটনার নেতিবাচক ছবি বারবার দেখানো।
তথ্য বাদ দেওয়া (Omitting Information) ঘটনাস্থলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া। পুরো ঘটনার একপেশে বর্ণনা।
বিশেষজ্ঞের মতামত (Expert Opinion) নির্দিষ্ট মতামতকে সমর্থন করে এমন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য তুলে ধরা। শুধু একপক্ষের বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার।

অনেক সময় দেখা যায়, কিছু তথাকথিত ‘বিশেষজ্ঞ’ বা ‘বিশ্লেষক’কে বারবার টেলিভিশনে আনা হয়, যাদের মতামত একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডাকে সমর্থন করে। তাদের বক্তব্যগুলো এত জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, একজন সাধারণ দর্শক সেটাকেই একমাত্র সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য হয়। আমার একবার মনে আছে, একটি বিতর্কিত প্রকল্পের খবর দেখছিলাম, যেখানে শুধু প্রকল্পটির সুফলগুলো নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছিল, কিন্তু পরিবেশগত প্রভাব বা স্থানীয় মানুষের সমস্যা নিয়ে কোনো কথাই বলা হচ্ছিল না। এটা আসলে সংবাদ পরিবেশনার একটা কৌশল, যার মাধ্যমে তারা আমাদের মনকে একটা নির্দিষ্ট দিকে চালিত করতে চায়। এই পক্ষপাতিত্ব বুঝতে হলে আমাদের সবসময়ই বিভিন্ন উৎস থেকে খবর যাচাই করে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

খবর পড়ার সময় যে ভুলগুলো আমরা প্রায়শই করি

শুধু শিরোনাম দেখেই মন্তব্য করা

সব খবরকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া

আমরা প্রায় সবাই কমবেশি এই ভুলটা করে থাকি, তাই না? তাড়াহুড়ো করে শুধু খবরের শিরোনাম দেখে অথবা প্রথম কয়েকটা লাইন পড়েই একটা সিদ্ধান্তে চলে আসি। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই প্রবণতা আরও বেড়ে গেছে। একটা আকর্ষণীয় শিরোনাম দেখে মনে হয় যেন পুরো খবরটা জেনে গেছি, আর সেটার ভিত্তিতেই মতামত দিতে শুরু করি। আমার নিজের অভিজ্ঞতাতেও দেখেছি, কতবার যে শুধু শিরোনাম দেখে ভুল বুঝেছি তার হিসেব নেই। একবার একটা বিজ্ঞান বিষয়ক খবরের শিরোনাম ছিল ‘নতুন আবিষ্কার: মারণরোগের সমাধান!’ ভেতরে গিয়ে দেখি, আবিষ্কারটা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, মানুষের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, আর সমাধানটা অনেক দূরের ব্যাপার। কিন্তু শিরোনামটা পড়েই আমি একদম উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম!

এই ধরনের ভুল আমাদের সমাজে ভুল তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।আরেকটা বড় ভুল হলো, সব খবরকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া। অনেক সময় দেখা যায়, একটা গসিপ বা গুজবকে আমরা যতটা গুরুত্ব দিয়ে পড়ি, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কোনো খবরকে ততটা গুরুত্ব দিই না। সব তথ্যেরই একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট এবং গুরুত্ব থাকে। কোনটা আপনার জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক আর কোনটা কম, সেটা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। আমি তো মনে করি, খবরের ভেতরের বিস্তারিত না পড়ে শুধু ‘হেডলাইন রিডার’ হয়ে থাকলে আমরা কখনোই বিশ্বের সঠিক চিত্রটা বুঝতে পারব না। একটা খবরকে পুরোপুরি বুঝতে হলে, সেটার মূল উৎস কী, কে বা কারা খবরটি তৈরি করেছে, এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য কী, সেগুলো সম্পর্কে জানাটা খুব জরুরি। এই ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে আমাদের খবর বোঝার ক্ষমতা অনেক বাড়বে।

Advertisement

সত্যের পথে হাঁটা: সচেতন পাঠক হওয়ার কায়দা কানুন

언론보도 프레이밍 이론 - **Image Prompt 2: Headline Hype vs. Reality**
    Create an image of a person (adult, casually dress...

তথ্য যাচাইয়ের কৌশল

নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ

সত্যি কথা বলতে কী, আজকের দিনে যখন তথ্যের সমুদ্র চারপাশে, তখন সচেতন পাঠক হওয়াটা কিন্তু মোটেই সহজ কাজ নয়। কিন্তু অসম্ভবও নয়! আমার মনে হয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্য যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তোলা। যখনই কোনো খবর পড়বেন, বিশেষ করে যদি সেটা চাঞ্চল্যকর বা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, তখনই একটু থামুন আর নিজেকে প্রশ্ন করুন – এই তথ্যটা নির্ভরযোগ্য তো?

খবরটি কি অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেও পাওয়া যাচ্ছে? আমি নিজে দেখেছি, যখন কোনো খবর নিয়ে একটু সন্দেহ হয়, তখন অন্তত দুটো বা তিনটে ভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে সেটা ক্রস-চেক করে নিই। এতে করে খবরের সত্যতা সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা পাওয়া যায় এবং একপেশে তথ্য থেকে নিজেদের রক্ষা করা যায়।আরেকটা বড় বিষয় হলো, নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করা। অন্ধভাবে কোনো তথ্যকে মেনে না নিয়ে, সেটার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা। খবরটি কি কোনো আবেগপ্রবণ ভাষা ব্যবহার করছে?

এটা কি আমাকে কোনো নির্দিষ্ট দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে? যদি আপনার মনে হয়, খবরের ভাষা বা উপস্থাপনা পক্ষপাতদুষ্ট, তাহলে সেটা নিয়ে আরও গভীরে অনুসন্ধান করুন। একজন সচেতন পাঠক হিসেবে আমাদের সবসময় খোলা মন নিয়ে খবর দেখতে হবে, কিন্তু সব কিছুকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যাবে না। মনে রাখবেন, সংবাদ মাধ্যমগুলো আমাদের কাছে খবর পৌঁছানোর একটি মাধ্যম মাত্র, চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণের দায়িত্ব আমাদের নিজেদের। আমাদের কাজ হলো তথ্যগুলোকে বিশ্লেষণ করা, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা এবং তারপর নিজের একটা সিদ্ধান্তে আসা। এই অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা ভুল তথ্য এবং ভুয়া খবরের জাল থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদ: ভাইরাল খবর বনাম আসল তথ্য

লাইক, শেয়ার আর সত্যি-মিথ্যের দোলাচল

তথ্য দূষণের যুগে আমাদের করণীয়

সোশ্যাল মিডিয়া আজকের জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই না? কিন্তু এখানেই যত গোলমাল! একটা খবর মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়, আর আমরা না বুঝেই সেটা শেয়ার করতে থাকি। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, একটা ভুয়া খবর যত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তার আসল সত্যিটা ততক্ষণে অনেকটাই চাপা পড়ে যায়। মানুষ লাইক, শেয়ারের নেশায় এমনভাবে মেতে থাকে যে, খবরের সত্যতা যাচাই করার কথা মাথায়ই আসে না। একবার একটা খবর দেখেছিলাম, একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছিল। আমি নিজে সেই খবরটা বিশ্বাস করে কয়েকজনকে জানিয়েও দিয়েছিলাম, পরে যখন আসল সত্যিটা জানলাম, তখন ভীষণ খারাপ লেগেছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া মানেই যে খবরটা সত্যি, এমনটা ভাবা একদমই ভুল।এই তথ্য দূষণের যুগে আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। কোনো খবর শেয়ার করার আগে অন্তত একবার হলেও সেটার সত্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। খবরের উৎস কী, কে বা কারা এই তথ্য দিয়েছে, এবং এটা কি কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদ মাধ্যমের খবর – এই প্রশ্নগুলো নিজেকে করা খুব জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু ভুয়া প্রোফাইল বা পেজ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়। তাদের উদ্দেশ্যই থাকে মানুষের মনে বিভেদ তৈরি করা বা ভুল ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া। আমাদের উচিত, যেকোনো খবর দেখলেই উত্তেজিত না হয়ে একটু ধৈর্য ধরা এবং সেটার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ হলে শেয়ার না করা। আমার তো মনে হয়, এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই আমাদের একটা সুস্থ ও তথ্যপূর্ণ সমাজ গড়তে সাহায্য করবে।

Advertisement

আমার নিজের দেখা কিছু ঘটনা: সংবাদ পরিবেশনার ভিন্ন রূপ

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

কীভাবে আমি নিজেকে সুরক্ষিত রাখি?

এতক্ষণ তো অনেক তত্ত্ব কথা বললাম, এবার আমার নিজের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আপনাদের তো বলেইছি, আমি অনেক বছর ধরেই এই ব্লগিং আর সংবাদ জগৎটা খুব কাছ থেকে দেখছি। একবার একটা স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে খবর দেখছিলাম। একই প্রকল্প, কিন্তু দুটো ভিন্ন টিভি চ্যানেল আর দুটো ভিন্ন পত্রিকায় খবরটা এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার কথা বলা হচ্ছে। একটা চ্যানেলে প্রকল্পটিকে ‘দেশ ও জাতির অগ্রগতি’র প্রতীক হিসেবে দেখানো হলো, যেখানে প্রকল্পের ভালো দিকগুলোকেই শুধু তুলে ধরা হলো, এমনকি স্থানীয়দের প্রশংসাও দেখানো হলো। অন্য চ্যানেলে ঠিক উল্টো চিত্র, প্রকল্পটির কারণে পরিবেশের ক্ষতি আর স্থানীয়দের উচ্ছেদ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করা হলো, এমনকি বিক্ষোভের ছবিও দেখানো হলো। আমি তো অবাক হয়ে গিয়েছিলাম!

তখন বুঝলাম, সংবাদ মাধ্যমগুলো নিজেদের এজেন্ডা বা দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী একটা খবরকে কতটা বদলে দিতে পারে।এই ঘটনাগুলো আমাকে শিখিয়েছে যে, কোনো একটি নির্দিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া খবরকে কখনোই চূড়ান্ত সত্য বলে মেনে নেওয়া যাবে না। আমি এখন যেকোনো বড় খবর দেখলে চেষ্টা করি অন্তত তিন-চারটি ভিন্ন সূত্র থেকে সেটা যাচাই করতে। বিশেষ করে, যখন কোনো বিতর্কিত বিষয় বা রাজনৈতিক খবর দেখি, তখন এই অভ্যাসটা খুব কাজে আসে। আমি শুধু মূলধারার মিডিয়াতেই আটকে থাকি না, বরং বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, স্বাধীন সাংবাদিকের ব্লগ বা ভিডিও, এমনকি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো থেকেও তথ্য সংগ্রহ করি। এতে করে আমার কাছে একটি ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র ফুটে ওঠে, এবং আমি কোনো একপেশে তথ্যের ফাঁদে পড়ি না। এই অভ্যাসটা গড়ে তোলার পর থেকে আমি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খবর পড়তে পারি এবং ভুল তথ্য থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারি। আপনারাও চেষ্টা করে দেখুন, দারুণ কাজে দেবে!

গল্পের শেষ

বন্ধুরা, এতক্ষণ ধরে আমরা সংবাদ জগতের নানা লুকানো দিক নিয়ে আলোচনা করলাম। আমার মনে হয়, এই আলোচনাগুলো আমাদের সবাইকে আরও একটু সচেতন করে তুলবে। খবর পড়া বা দেখার সময় এখন আপনারা নিশ্চয়ই আরও গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তাই না? এই ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করাটা সত্যিই একটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমার বিশ্বাস, একটু চেষ্টা করলেই আমরা সবাই সত্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতাই আপনাকে ভুল তথ্যের জাল থেকে বাঁচাবে এবং একটি সুন্দর, সত্যনিষ্ঠ সমাজ গড়তে সাহায্য করবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একজন সচেতন পাঠক ও দর্শক হওয়ার চেষ্টা করি।

Advertisement

কিছু দরকারি তথ্য যা আপনার জানা উচিত

১. যখনই কোনো চাঞ্চল্যকর খবর দেখবেন, প্রথমে একটু থামুন এবং একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করুন।

২. খবরের শিরোনাম আর ছবি দেখে পুরো ঘটনা সম্পর্কে ধারণা করা থেকে বিরত থাকুন, ভেতরের বিস্তারিত পড়ুন।

৩. যেকোনো খবরের পেছনের উদ্দেশ্য কী হতে পারে, সেটা নিয়ে একটু ভাবুন; কে বা কারা এই খবর থেকে লাভবান হতে পারে?

৪. সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া মানেই খবরটা সত্যি নয়, শেয়ার করার আগে এর সত্যতা নিশ্চিত করুন।

৫. শুধুমাত্র আপনার পছন্দের সংবাদ মাধ্যমেই আটকে না থেকে, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির উৎসগুলো থেকেও তথ্য সংগ্রহ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে

সংবাদ মাধ্যমে পক্ষপাতিত্ব বোঝা এবং তথ্য যাচাই করা এখন সময়ের দাবি। শব্দচয়ন, শিরোনাম, ছবির ব্যবহার, এমনকি বিশেষজ্ঞ মতামত – সবকিছুই আমাদের ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সবসময় খোলা মন নিয়ে খবর দেখুন, প্রতিটি তথ্যের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করুন এবং নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করুন। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভুয়া খবর থেকে বাঁচতে আমাদের ব্যক্তিগত সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন উৎস থেকে খবর তুলনা করুন, সমালোচনামূলক চিন্তা করুন এবং সত্যের পথ খুঁজে বের করুন। আপনার সচেতনতাই শক্তিশালী ও তথ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম একই খবর কেন এত ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে?

উ: এটা খুবই সাধারণ একটা প্রশ্ন, আর এর উত্তরটাও বেশ মজার! আমি যখন প্রথম এই বিষয়টা বুঝতে পারি, তখন আমার মনেও একই প্রশ্ন এসেছিল। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ কাজ করে। প্রথমত, প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমের নিজস্ব একটা সম্পাদকীয় নীতি থাকে, যাকে ইংরেজিতে ‘এডিটরিয়াল পলিসি’ বলা হয়। তারা কোন খবরকে কতটা গুরুত্ব দেবে, কোন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখাবে, বা কোন তথ্যগুলোকে হাইলাইট করবে, সেটা এই নীতির উপর নির্ভর করে। আমার নিজের চোখে দেখা, একটা ঘটনার দুটো ভিন্ন টিভি চ্যানেলে একই ফুটেজ দেখালেও, ভাষ্য বা কমেন্ট্রিতে সম্পূর্ণ ভিন্নতা দেখা যায়।দ্বিতীয়ত, তাদের টার্গেট অডিয়েন্স বা দর্শক কারা, তার ওপরও নির্ভর করে। যেমন, যারা ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত খবর দেখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য হয়তো একটি অর্থনীতির খবরের গভীরে যাওয়া হবে, আবার যারা বিনোদন খোঁজেন, তাদের জন্য সে খবরটি হয়তো আরও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা হবে। ভাবুন তো, আপনার বন্ধু আর আপনার পরিবারকে কি আপনি একই খবর একই ভাবে বলেন?
নিশ্চয়ই না! তৃতীয়ত, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থও একটা বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় সংবাদ মাধ্যমগুলোর মালিকানা বা তাদের বিজ্ঞাপনদাতারাও খবরের পরিবেশনার ওপর প্রভাব ফেলে। আমি একবার দেখেছিলাম, একটি নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠী সম্পর্কিত একটি খবর দুটি ভিন্ন পত্রিকায় সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। একটিতে ছিল প্রশংসা, অন্যটিতে সমালোচনা। এতেই বোঝা যায়, কীভাবে স্বার্থগুলো কাজ করে। আর সবশেষে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মতামত বা পক্ষপাতও খবরের উপস্থাপনায় চলে আসে, যা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ধরে রাখা কঠিন করে তোলে।

প্র: ভুয়া খবর (Fake News) বা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ (Biased News) কীভাবে চিনবো?

উ: সত্যি বলতে কি, এখনকার যুগে ভুয়া খবর চেনাটা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তো এটা আরও বেশি। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এমন অনেক সময় হয়েছে যখন আমি প্রায় ভুয়া খবর বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম, কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটু যাচাই করতেই সব বেরিয়ে এসেছে। ভুয়া খবর চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, আগে শিরোনামটা দেখুন। যদি দেখেন শিরোনামটা অতিরিক্ত চমকপ্রদ বা আপনার আবেগকে উসকে দিচ্ছে, তাহলে একটু সতর্ক হোন। ভুয়া খবর প্রায়শই এমন হয় যা আপনাকে দ্রুত শেয়ার করতে প্ররোচিত করে।এরপর খবরটির উৎস যাচাই করুন। খবরটি কোত্থেকে আসছে?
এটা কি একটা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত সংবাদ মাধ্যম, নাকি কোনো অচেনা ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজ? অপরিচিত উৎস থেকে আসা খবরকে সব সময় সন্দেহের চোখে দেখা উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো খবর শেয়ার করার আগে অন্তত দুটো ভিন্ন, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নিই।খবরটির ভাষা ও লেখার ধরনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়া খবরে প্রায়শই ব্যাকরণগত ভুল, বানান ভুল, বা আবেগপ্রবণ ভাষা ব্যবহার করা হয়। তথ্যের সত্যতা যাচাই করুন। খবরটিতে যদি কোনো পরিসংখ্যান, তারিখ, বা উদ্ধৃতি থাকে, তাহলে সেগুলো গুগল সার্চ করে বা অন্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মিলিয়ে দেখুন। একবার আমি একটি ছবি দেখেছিলাম যা বলা হচ্ছিল সাম্প্রতিক, কিন্তু একটু সার্চ করতেই দেখা গেল সেটি বহু পুরনো একটি ঘটনা!
আর, সবচেয়ে বড় কথা হলো, খবরের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে কিনা, সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। এটা কি কেবল তথ্য দিচ্ছে, নাকি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে বা বিপক্ষে জনমত তৈরি করতে চাইছে?
এই সামান্য কিছু বিষয় মনে রাখলেই আপনি অনেক ভুয়া খবর থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন।

প্র: একজন সচেতন পাঠক হিসেবে আমাদের কী করা উচিত যাতে আমরা সহজে প্রভাবিত না হই?

উ: সংবাদ মাধ্যমগুলো যেহেতু আমাদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে, তাই আমাদের সচেতন থাকাটা খুবই জরুরি। আমি মনে করি, নিজেকে রক্ষা করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ‘সন্দেহপ্রবণ মন’ তৈরি করা। সহজ কথায়, সবকিছু সহজে বিশ্বাস করবেন না। যখনই কোনো খবর পড়বেন বা দেখবেন, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: “এটা কি সত্যিই সত্যি?
এর পেছনে আর কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে?”প্রথমত, আপনার তথ্যের উৎসগুলোকে বৈচিত্র্যময় করুন। শুধু একটি বা দুটি সংবাদ মাধ্যমের উপর নির্ভর না করে, বিভিন্ন ধরনের সংবাদ মাধ্যম দেখুন – দেশীয়, আন্তর্জাতিক, প্রধান স্রোতের এবং বিকল্প ধারারও। এতে আপনি একটি ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং একটি সুষম ধারণা তৈরি হবে। আমি চেষ্টা করি প্রতিদিন অন্তত তিনটি ভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে খবর দেখতে।দ্বিতীয়ত, খবরের পেছনে থাকা এজেন্ডা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমের নিজস্ব একটা ‘এজেন্ডা’ থাকে, সেটা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক যাই হোক না কেন। যখন আপনি এটা বুঝতে পারবেন, তখন তাদের খবরের উপস্থাপনা আপনাকে কম প্রভাবিত করবে।তৃতীয়ত, ধৈর্য ধরুন। কোনো বিতর্কিত বা গুরুত্বপূর্ণ খবর দেখা মাত্রই প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না বা দ্রুত বিশ্বাস করবেন না। একটু সময় নিন, খবরটি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করুন এবং তারপর নিজের একটি মতামত তৈরি করুন। আমার অভিজ্ঞতা বলে, অনেক সময় দেখা যায় একটি খবর প্রথম দিকে যেভাবে আসে, পরে তার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র বেরিয়ে আসে। তাই, তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে বিচার করা উচিত।সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের নিজেদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিটি তথ্যকে প্রশ্ন করার এবং তার সত্যতা যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এভাবে আমরা কেবল নিজেকেই রক্ষা করব না, বরং সমাজে আরও দায়িত্বশীল তথ্য ভাগাভাগি করতেও সাহায্য করব।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement