বন্ধুরা, আজকাল জনসংযোগ বা PR ব্যাপারটা কতোটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা তো আমরা সবাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি, তাই না? একটা দারুণ আইডিয়া বা পণ্য যখন ঠিকঠাক মানুষের কাছে না পৌঁছায়, তখন তার কদরই বা কে করবে!
বিশেষ করে এই দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায়, যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম আর মিডিয়া হাউস তাদের নতুনত্ব নিয়ে আসছে, সেখানে কোনটা ছেড়ে কোনটা ধরবেন, সেটা নিয়েই অনেকে ধন্দে পড়ে যান। আমি নিজেও আমার কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শুধুমাত্র কাগজে একটা খবর ছাপিয়ে দিলেই আজকাল আর চলে না। টেলিভিশন থেকে শুরু করে রেডিও, অনলাইন পোর্টাল, আর এই যে সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমা—প্রতিটা জায়গার জন্যেই আমাদের ভাবনাচিন্তাটা আলাদা হওয়া চাই। কীভাবে আমাদের ব্র্যান্ড বা বার্তাকে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্য আর আকর্ষণীয় করে তুলবো, যাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ীরাও মনোযোগ দেন?
কিংবা কোন প্ল্যাটফর্মে কোন ধরনের গল্প সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করবে, সেটা জানা কি খুব জরুরি নয়? এই সমস্ত প্রশ্ন নিয়েই তো আমাদের মাথা ঘামে! চিন্তা নেই, আমার নিজের অভিজ্ঞতা আর কিছু দারুণ রিসার্চ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো আপনাদের সঙ্গে আজ শেয়ার করবো। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চলুন, নিচের লেখাটি মন দিয়ে পড়ি!
ডিজিটাল যুগের জনসংযোগ: কীভাবে সঠিক প্ল্যাটফর্ম খুঁজবেন?

আজকের দিনে জনসংযোগ মানেই শুধু খবরের কাগজে বা টিভিতে খবর ছাপানো নয়, এটা এক বিশাল ক্যানভাস। আমি যখন প্রথম PR জগতে পা রাখি, তখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এতোটা শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন!
আমার মনে আছে, একবার একটি ছোট স্টার্টআপের জন্য কাজ করছিলাম, তাদের বাজেট ছিল খুব কম। সনাতন মিডিয়াতে যাওয়ার মতো অর্থ ছিল না। তখন আমি তাদের জন্য কিছু ডিজিটাল ইনোভেশন করি, যা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। বুঝতে পারছিলাম, আমাদের টার্গেট অডিয়েন্স কোথায় বেশি সক্রিয়, সেটাই খুঁজে বের করা আসল কাজ। তরুণ প্রজন্ম যেমন ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, বা ইউটিউবে সময় কাটায়, তেমনি পেশাদাররা লিঙ্কডইনকে বেশি গুরুত্ব দেন। আর যারা গভীর আলোচনা পছন্দ করেন, তাদের জন্য ব্লগ বা অনলাইন ফোরামগুলোই সেরা জায়গা। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, শুধু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের পিছনে না ছুটে, আপনার বার্তাটি কার কাছে পৌঁছানো দরকার, সেই অনুযায়ী প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করা উচিত। আমি দেখেছি, ভুল জায়গায় হাজার চেষ্টা করেও লাভ হয় না, আর সঠিক জায়গায় অল্প প্রচেষ্টাতেই দারুণ ফল আসে। সত্যি বলতে কি, এই ডিজিটাল স্পেস এত দ্রুত বদলাচ্ছে যে, প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে হচ্ছে এবং নিজেকে আপডেট রাখতে হচ্ছে, নাহলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হয়। যখন দেখি আমার পরিশ্রমের ফলস্বরূপ কোনো ব্র্যান্ডের কথা হাজার হাজার মানুষের মুখে মুখে ফিরছে, তখন মনটা খুশিতে ভরে ওঠে।
লক্ষ্য দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আসল মজাটাই হলো, আপনি খুব সুনির্দিষ্টভাবে আপনার লক্ষ্য দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পারেন। আমি যখন প্রথম ডিজিটাল পিআর শুরু করি, তখন বুঝতে পারিনি যে ডেটা অ্যানালাইসিস কতটা জরুরি। এখন আমি জানি, গুগল অ্যানালিটিক্স বা ফেসবুক ইনসাইটসের মতো টুলস ব্যবহার করে খুব সহজেই বোঝা যায় আপনার কনটেন্ট কারা দেখছে, কোন বয়সীরা দেখছে, এমনকি তাদের আগ্রহগুলো কী কী। আমার নিজের একটি ক্যাম্পেইনের কথা মনে পড়ছে, যেখানে আমরা একটি শিক্ষামূলক অ্যাপ নিয়ে কাজ করছিলাম। প্রথমে আমরা সব সোশ্যাল মিডিয়াতেই পোস্ট দিচ্ছিলাম। কিন্তু ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখলাম, আমাদের মূল দর্শক হলো ১৮-২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা, যারা ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রামে বেশি সক্রিয়। তখন আমরা আমাদের বাজেট এবং কনটেন্ট তৈরির কৌশল সম্পূর্ণভাবে এই দুটি প্ল্যাটফর্মের দিকে নিয়ে গেলাম এবং অবিশ্বাস্য সাড়া পেয়েছিলাম। এটা আমার জন্য একটা বড় শিক্ষা ছিল যে, শুধু আন্দাজে কাজ না করে ডেটা নির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কত জরুরি।
সঠিক কন্টেন্ট, সঠিক সময়ে
শুধু প্ল্যাটফর্ম খুঁজলেই হবে না, সেই প্ল্যাটফর্মে কোন ধরনের কনটেন্ট সবচেয়ে ভালো কাজ করে, সেটাও জানতে হবে। যেমন, ইনস্টাগ্রামে সুন্দর ছবি আর ছোট ভিডিও বেশি চলে, ইউটিউবে লম্বা টিউটোরিয়াল বা রিভিউ ভিডিও, আর ব্লগে বিস্তারিত লেখা। আমি যখন আমার নিজের ব্লগের জন্য লিখি, তখন সবসময় চেষ্টা করি এমন একটা গল্প বলতে, যা পাঠকদের মন ছুঁয়ে যায় এবং তারা নিজেদের সঙ্গে বিষয়টাকে মেলাতে পারে। মনে আছে, একবার আমি একটি নতুন ফিনান্সিয়াল প্রোডাক্টের জন্য PR করছিলাম। আমরা শুধু ফিচারগুলো নিয়ে কথা না বলে, মানুষের জীবনে এই প্রোডাক্টটা কীভাবে পরিবর্তন আনবে, সে গল্পটা বলেছিলাম। দেখলাম, সেই গল্পটাই মানুষের মনে বেশি দাগ কাটলো। কারণ মানুষ তথ্যের চেয়েও বেশি চায় একটা সংযোগ, একটা অনুভূতি। আর এই সংযোগ তৈরি করতে পারলে আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি তাদের বিশ্বাস আপনাআপনিই বেড়ে যাবে।
গল্প বলার জাদু: আপনার বার্তাকে কীভাবে আকর্ষণীয় করবেন?
আমরা বাঙালিরা জন্ম থেকেই গল্প শুনতে আর বলতে ভালোবাসি, তাই না? এই যে আমার এত দিনের PR জার্নি, সেখানে আমি একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝেছি—শুধু তথ্য পরিবেশন করলে মানুষ মনে রাখে না, কিন্তু একটা সুন্দর গল্প বললে সেটা মানুষের মনে গেঁথে যায়। একবার একটা নতুন রেস্টুরেন্টের উদ্বোধনের জন্য কাজ করছিলাম। সাধারণ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিলেই পারতাম, কিন্তু আমি ভাবলাম একটু অন্যভাবে ভাবি। রেস্টুরেন্টের মালিকের গল্পটা তুলে ধরলাম—কীভাবে তিনি ছোট্ট একটা চায়ের দোকান থেকে শুরু করে এতো বড় রেস্টুরেন্ট বানালেন, তার স্বপ্ন আর সংগ্রাম নিয়ে। সেই গল্পটা এতো মানুষের মন ছুঁয়েছিল যে, শুধু খবরই নয়, অনেকে রেস্টুরেন্টের সাফল্যের গল্পটা দেখতেও এসেছিল। এই যে মানুষের আবেগের সাথে সংযোগ স্থাপন করা, এটাই হলো গল্প বলার আসল জাদু। আমি যখন দেখি আমার ক্লায়েন্টদের পণ্য বা সেবা নিয়ে আমি এমন কোনো গল্প তৈরি করতে পারছি, যা মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন তোলে, তখন আমার নিজেরও দারুণ লাগে। এটা শুধুমাত্র PR নয়, এটা যেন মানুষের সঙ্গে মানুষের একটা অদৃশ্য বন্ধন তৈরি করা।
আবেগপ্রবণ গল্পের বাঁধন
মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবেগের একটা বড় ভূমিকা থাকে। আমি দেখেছি, যখন আপনি শুধুমাত্র আপনার পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে কথা বলেন, তখন সেটা মস্তিষ্কে পৌঁছায়। কিন্তু যখন আপনি একটা আবেগপ্রবণ গল্প বলেন, তখন সেটা সরাসরি হৃদয়ে প্রবেশ করে। একবার আমি একটি চ্যারিটি সংস্থার জন্য ফান্ড সংগ্রহের কাজ করছিলাম। আমরা শুধু তাদের কাজের পরিসংখ্যান না দেখিয়ে, সেই সংস্থার মাধ্যমে উপকৃত হওয়া একজন শিশুর গল্প বলেছিলাম। কীভাবে তার জীবন বদলে গেছে, কীভাবে সে আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে—এই গল্পটা যখন মিডিয়ার সামনে আসে, তখন মানুষ অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে যে, গল্প যখন ব্যক্তিগত হয়, যখন তা একজন মানুষের জীবনকে প্রতিফলিত করে, তখন তার আবেদন অনেক গুণ বেড়ে যায়।
বিশ্বস্ততা তৈরির কৌশল
শুধু ভালো গল্প বললেই হয় না, সেই গল্পের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা থাকা চাই। আমি আমার কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, যদি আপনার গল্পে সততা না থাকে, তবে তা ক্ষণিকের জন্য সাড়া ফেললেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো প্রভাব ফেলে না। আজকালকার দিনে মানুষ খুবই স্মার্ট, তারা খুব সহজেই মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য ধরে ফেলে। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি এমন গল্প বলতে, যেখানে তথ্যগুলো বাস্তবসম্মত এবং যাচাইযোগ্য হয়। যেমন, কোনো প্রোডাক্টের রিভিউ নিয়ে কাজ করার সময়, আমি চেষ্টা করি এমন ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করতে, যারা আসলেই প্রোডাক্টটি ব্যবহার করেছেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে প্রস্তুত। তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা আর আবেগপূর্ণ বর্ণনা আমার তৈরি করা গল্পকে আরও বেশি বিশ্বস্ত করে তোলে। আমার মতে, বিশ্বাসযোগ্যতা হলো PR এর মূল ভিত্তি। একবার সেই বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে আপনার ব্র্যান্ডের জন্য মানুষ নিজের থেকেই মুখ ফুটে কথা বলবে, যা PR এর সবচেয়ে বড় সাফল্য।
মিডিয়া বন্ধুদের মন জয়: সম্পর্ক গড়ার সহজ উপায়
আমার PR ক্যারিয়ারে একটা কথা বারবার প্রমাণ হয়েছে—মিডিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক না থাকলে আপনার কাজটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। আমি প্রথম যখন এই লাইনে আসি, তখন ভাবতাম শুধু ভালো কনটেন্ট দিলেই বুঝি সব হয়ে যাবে। কিন্তু খুব দ্রুতই বুঝলাম, সাংবাদিক, ব্লগার, বা প্রভাবশালীদের সঙ্গে একটা ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকাটা কতটা জরুরি। আমি দেখেছি, যখন কোনো সাংবাদিক আমার ওপর ভরসা করে, তখন তারা আমার পাঠানো তথ্যগুলো আরও মনোযোগ দিয়ে দেখে। আর এই সম্পর্কগুলো একদিনে তৈরি হয় না। এর জন্য সময় দিতে হয়, তাদের প্রয়োজন বুঝতে হয়, এমনকি তাদেরও সাহায্য করতে হয়। যেমন, আমি যখন কোনো নতুন খবর পাঠাই, তখন শুধুমাত্র আমার ক্লায়েন্টের কথা না ভেবে, সাংবাদিকের জন্য কী খবরটা আকর্ষণীয় হতে পারে, সেটাও মাথায় রাখি। এতে দুজনেরই উপকার হয়।
পারস্পরিক সুবিধার সম্পর্ক
মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মানে শুধু খবর পাঠানো নয়, বরং একটা পারস্পরিক সুবিধার সম্পর্ক তৈরি করা। আমি দেখেছি, যদি আপনি শুধু নিজের সুবিধা দেখেন, তবে সম্পর্কটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আমার নিজের একটা মজার অভিজ্ঞতা আছে। একবার এক সাংবাদিক আমাকে একটা খবর প্রকাশের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন, কিন্তু আমার কাছে তখন কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য ছিল না। আমি তাকে সরাসরি বলেছিলাম যে, এই মুহূর্তে আমার কাছে তার জন্য কোনো দারুণ খবর নেই, তবে অন্য একটি বিষয়ে আমি তাকে সাহায্য করতে পারি, যা তার জন্য মূল্যবান হতে পারে। তিনি রাজি হয়েছিলেন এবং সেই খবরটি প্রকাশ করেছিলেন। এই ঘটনার পর আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছিল। কারণ তিনি বুঝেছিলেন যে, আমি শুধু নিজের কাজ দেখছি না, তার চাহিদাকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। এভাবেই আসলে আস্থা তৈরি হয়।
নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্মান
মিডিয়ার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাটা খুব জরুরি, কিন্তু তাই বলে তাদের বিরক্ত করা যাবে না। আমি সবসময় চেষ্টা করি প্রাসঙ্গিক তথ্য নিয়ে তাদের কাছে যেতে, আর না হলে মাঝে মাঝে শুধু কুশল বিনিময় করি। যখনই কোনো নতুন প্রকল্প নিয়ে কাজ করি, প্রথমেই সেই সাংবাদিক বা ব্লগারদের কথা মাথায় রাখি, যারা এই বিষয়ে আগে কাজ করেছেন বা যাদের আগ্রহ আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, তাদের কাজের প্রতি সম্মান দেখানো। সাংবাদিকরা অনেক পরিশ্রম করে খবর তৈরি করেন, তাই তাদের সময় এবং কাজকে সবসময় মূল্য দেওয়া উচিত। যখন তারা বোঝেন যে আপনি তাদের সম্মান করেন, তখন তারা আপনার ব্র্যান্ডের প্রতিও সহানুভূতিশীল হন। এটা আমার অভিজ্ঞতা যে, এই ছোট্ট বিষয়গুলোই আসলে দীর্ঘমেয়াদী এবং ফলপ্রসূ সম্পর্ক তৈরির চাবিকাঠি।
সংকটের সময়ে জনসংযোগ: খারাপ খবরকে ভালো মোড়ে ঘোরানো
জীবনে যেমন ভালো সময় আসে, তেমনি খারাপ সময়ও আসে। ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমার PR জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি এসেছে, যখন মনে হয়েছে সব বুঝি শেষ!
কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে একটা গুজব ছড়িয়ে পড়ল, বা কোনো ভুল তথ্যের কারণে নেতিবাচক প্রচার শুরু হলো। আমি দেখেছি, এমন সময়ে ঘাবড়ে গেলে চলে না, বরং মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। একবার আমার এক ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, যা তাদের ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য মারাত্মক হুমকি ছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে একটি টিম তৈরি করে সত্যটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি এবং পুরো স্বচ্ছতার সঙ্গে মিডিয়ার সামনে আসি। আমরা আমাদের ভুল থাকলে সেটা স্বীকার করি এবং দ্রুত সমাধানের পথ দেখাই। এই সময়টায় আমার মনে হয়েছিল যেন আমি একটি যুদ্ধক্ষেত্রে আছি, কিন্তু দৃঢ় সংকল্প আর সততা দিয়ে আমরা সেই যুদ্ধ জিতেছিলাম। খারাপ খবরকে ভালোভাবে হ্যান্ডেল করাটাও একটা শিল্প, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শেখা যায়।
স্বচ্ছতা ও দ্রুত পদক্ষেপ
সংকটকালীন সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। আমি যখন দেখি কোনো সমস্যা হয়েছে, তখন সবার আগে ক্লায়েন্টকে বলি পুরো ঘটনাটা ভালোভাবে পর্যালোচনা করতে এবং কোনো কিছু লুকানোর চেষ্টা না করতে। কারণ সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই, আর তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। মনে আছে, একবার একটি খাদ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানির পণ্যে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ উঠেছিল। আমরা তৎক্ষণাৎ বাজার থেকে সব পণ্য তুলে নিয়েছিলাম এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছিলাম। একই সাথে, মিডিয়ার সামনে এসে আমরা পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করি এবং জনগণকে আশ্বস্ত করি যে, আমরা তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। আমাদের এই দ্রুত এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপের কারণে মানুষ আমাদের ওপর আস্থা হারায়নি, বরং আমাদের সততার প্রশংসা করেছিল।
সহানুভূতি ও সমাধান
শুধুমাত্র সত্য বলা যথেষ্ট নয়, তার সাথে সহানুভূতি এবং সমাধানের পথও দেখাতে হবে। যখন একটি সংকট তৈরি হয়, তখন মানুষ চায় আপনি তাদের সমস্যার কথা শুনুন এবং তার একটি প্রতিকার দিন। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই সময়ে মানুষকে আশ্বস্ত করা খুব জরুরি। একবার একটি টেলিকম কোম্পানির নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে গ্রাহকরা খুব বিরক্ত হয়েছিলেন। আমরা শুধু দুঃখ প্রকাশ না করে, দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং কখন নাগাদ সমস্যা মিটবে, তার একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করি। এমনকি যাদের সমস্যা হয়েছিল, তাদের জন্য কিছু বাড়তি সুবিধা ঘোষণা করি। এই পদক্ষেপের কারণে গ্রাহকদের ক্ষোভ অনেকটাই কমেছিল এবং আমরা তাদের আস্থা আবার ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলাম। কারণ মানুষ শুধু অভিযোগ জানাতে চায় না, তারা চায় সমস্যার সমাধান।
সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তি: ব্র্যান্ডকে তারার মতো উজ্জ্বল করা

সোশ্যাল মিডিয়া আজকের দিনে কেবল বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করার জায়গা নয়, এটা ব্র্যান্ড তৈরির এক শক্তিশালী হাতিয়ার। আমি যখন আমার নিজের ব্লগের কাজ শুরু করি, তখন সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি বুঝিনি। ধীরে ধীরে যখন দেখলাম একটি পোস্ট বা একটি ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ কত দ্রুত হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে, তখন আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। আমার মনে আছে, একবার একটা ছোট হস্তশিল্প ব্যবসাকে প্রমোট করছিলাম। তাদের বাজেট ছিল না বড় বিজ্ঞাপনের জন্য। তখন আমরা তাদের হাতে তৈরি পণ্যের সুন্দর ছবি আর তার পেছনের গল্পগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা শুরু করলাম। কিছুদিনের মধ্যেই তাদের পোস্টগুলো ভাইরাল হয়ে গেল, আর অর্ডার আসতে শুরু করলো দেশের বাইরে থেকেও। এটা দেখে আমার মনে হলো, সঠিক কৌশল আর আন্তরিকতা থাকলে সোশ্যাল মিডিয়া আসলেই যেকোনো ব্র্যান্ডকে তারার মতো উজ্জ্বল করতে পারে।
প্রভাবশালীদের সঙ্গে সহযোগিতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্র্যান্ডকে জনপ্রিয় করার একটি দারুণ উপায় হলো প্রভাবশালী বা ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে কাজ করা। আমি দেখেছি, যখন কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি আপনার পণ্য বা সেবা নিয়ে কথা বলেন, তখন তাদের অনুসারীরা দ্রুত সেই ব্র্যান্ডের প্রতি আগ্রহী হয়। তবে এখানে একটা বিষয় খুব জরুরি, সঠিক ইনফ্লুয়েন্সার নির্বাচন করা। আমি সবসময় চেষ্টা করি এমন ইনফ্লুয়েন্সার খুঁজে বের করতে, যার নিজের মূল্যবোধ এবং অনুসারীরা আমার ক্লায়েন্টের টার্গেট অডিয়েন্সের সাথে মেলে। মনে আছে, একবার একটি নতুন বইয়ের জন্য PR করছিলাম। আমি একজন জনপ্রিয় বুক রিভিউয়ারকে বইটি পাঠিয়েছিলাম। তিনি বইটি পড়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি দারুণ রিভিউ দিয়েছিলেন। তার সেই একটি পোস্ট বইটির বিক্রি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল।
অডিয়েন্সের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকুন
সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনি আপনার অডিয়েন্সের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেন। আমি সবসময় আমার ক্লায়েন্টদের বলি, শুধু পোস্ট করলেই হবে না, মানুষের মন্তব্যের উত্তর দিন, তাদের প্রশ্নগুলোর জবাব দিন, তাদের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি করুন। যখন মানুষ অনুভব করে যে আপনি তাদের কথা শুনছেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তখন তারা আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি আরও বেশি অনুগত হয়। একবার একটি অনলাইন ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজ করছিলাম। আমরা নিয়মিত কুইজ বা পোল আয়োজন করতাম এবং বিজয়ীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করতাম। এতে শুধু ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আগ্রহই বাড়েনি, বরং একটি কমিউনিটি তৈরি হয়েছিল, যেখানে মানুষ তাদের মতামত ও পছন্দ ভাগ করে নিতে পারছিল। এই ধরনের ইন্টারঅ্যাকশন ব্র্যান্ডকে আরও মানবিক এবং আপন করে তোলে।
ফলাফল পরিমাপ: জনসংযোগের সুফল মাপা কি সম্ভব?
আমার PR জীবনে একটা কমন প্রশ্ন প্রায়ই আসে, “আচ্ছা, জনসংযোগ করে কী লাভ হলো? এর সুফল কি মাপা যায়?” প্রথমদিকে আমি নিজেও এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হিমশিম খেতাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বুঝেছি, হ্যাঁ, অবশ্যই জনসংযোগের সুফল মাপা সম্ভব, তবে তার জন্য কিছু নির্দিষ্ট মেট্রিক্স এবং টুলস ব্যবহার করতে হয়। শুধুমাত্র খবরের কাগজে কটা খবর ছাপা হলো, সেটাই একমাত্র মাপকাঠি নয়। আজকাল আমরা দেখি, সোশ্যাল মিডিয়াতে কতজন আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে কথা বলছে, কতজন আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করছে, বা কতজন আপনার পোস্ট শেয়ার করছে—এই সব কিছুই PR এর সাফল্যের অংশ। একবার একটি প্রযুক্তি পণ্যের PR ক্যাম্পেইন করছিলাম, যেখানে আমরা শুধু মিডিয়ার কাভারেজই নয়, আমাদের ওয়েবসাইটে আসা নতুন ভিজিটর এবং প্রোডাক্টের ইনকোয়ারি ডেটাও ট্র্যাক করেছিলাম। এই ডেটাগুলো দেখে ক্লায়েন্টও বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাদের PR ইনভেস্টমেন্ট কতটা কাজে লাগছে।
| জনসংযোগের ধরন | সুফল পরিমাপের পদ্ধতি | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ঐতিহ্যবাহী মিডিয়া (সংবাদপত্র, টিভি, রেডিও) | মিডিয়া কাভারেজের পরিমাণ (AD Value Equivalency), কাভারেজের ধরণ (পজিটিভ/নেগেটিভ), অডিয়েন্সের পৌঁছ | জাতীয় দৈনিকে ৫টি পজিটিভ খবর, টিভি চ্যানেলে ২ মিনিটের আলোচনা |
| ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া | এনগেজমেন্ট রেট (লাইক, শেয়ার, কমেন্ট), ওয়েবসাইট ট্রাফিক, ব্র্যান্ড মেনশন, লিড জেনারেশন | ফেসবুক পোস্টে ১০ হাজার লাইক, ২০০ শেয়ার, ব্লগে ৫০০ নতুন ভিজিটর |
| ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং | ইনফ্লুয়েন্সারের পোস্টের পৌঁছ, এনগেজমেন্ট রেট, ব্র্যান্ডের প্রতি সেন্টিমেন্ট পরিবর্তন | ইনফ্লুয়েন্সারের রিভিউ ভিডিওতে ৫০ হাজার ভিউ, ৫০০ কমেন্ট |
| সংকটকালীন জনসংযোগ | নেতিবাচক কাভারেজ কমে যাওয়া, ব্র্যান্ড সেন্টিমেন্টের উন্নতি, গ্রাহক সন্তুষ্টি | গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক আলোচনা ১০% কমে যাওয়া |
সঠিক মেট্রিক্স নির্বাচন
জনসংযোগের ফলাফল পরিমাপের জন্য সঠিক মেট্রিক্স নির্বাচন করা খুব জরুরি। সব মেট্রিক্স সবার জন্য এক রকম কাজ করে না। আমি যখন আমার ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করি, তখন সবার আগে তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে জেনে নিই। তারা কি ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়াতে চায়?
নাকি বিক্রি বাড়াতে চায়? নাকি ব্র্যান্ডের ইমেজ ভালো করতে চায়? একবার একটি স্টার্টআপের জন্য কাজ করছিলাম, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়ানো। তখন আমরা তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার এনগেজমেন্ট রেট, ওয়েবসাইটে আসা নতুন ভিজিটর এবং মিডিয়াতে তাদের ব্র্যান্ড মেনশন ট্র্যাক করতে শুরু করি। এই মেট্রিক্সগুলো তাদের সাফল্যের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছিল। আমার মতে, আপনার জনসংযোগ কার্যক্রমের লক্ষ্য কী, সেটা আগে ঠিক করুন, তারপর সেই অনুযায়ী মেট্রিক্স নির্বাচন করুন।
ডেটা বিশ্লেষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
শুধু ডেটা সংগ্রহ করলেই হবে না, সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটা নির্ধারণ করাও জরুরি। আমার অভিজ্ঞতা বলে, ডেটাগুলো গল্পের মতো। তারা আপনাকে বলে দেয় কোথায় আপনার কাজ ভালো হচ্ছে এবং কোথায় উন্নতির প্রয়োজন। যখন আমরা কোনো ক্যাম্পেইনের ডেটা বিশ্লেষণ করি, তখন আমরা দেখি কোন ধরনের কনটেন্ট ভালো কাজ করছে, কোন প্ল্যাটফর্মে বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, বা কোন বার্তায় মানুষ বেশি আগ্রহী হচ্ছে। এই অন্তর্দৃষ্টিগুলো আমাদের পরবর্তী ক্যাম্পেইনগুলোকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করে। একবার একটি অনলাইন কোর্সের জন্য PR করছিলাম। ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখলাম, ইউটিউব ভিডিওগুলো খুব ভালো সাড়া পাচ্ছে, কিন্তু ব্লগের লেখাগুলো তেমন জনপ্রিয় হচ্ছে না। তখন আমরা আমাদের ব্লগের কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিতে পরিবর্তন আনি এবং ভিডিও কনটেন্ট তৈরিতে আরও বেশি মনোযোগ দিই। এভাবেই আসলে ডেটা আপনাকে সঠিক পথে চালিত করে এবং আপনার জনসংযোগের বিনিয়োগকে আরও ফলপ্রসূ করে তোলে।
ছোট বাজেটে বড় প্রভাব: চতুর জনসংযোগের কৌশল
আমার PR জীবনে বহুবার এমন ক্লায়েন্ট পেয়েছি যাদের বাজেট খুবই সীমিত, কিন্তু তাদের স্বপ্ন অনেক বড়। প্রথমদিকে ভাবতাম, কম বাজেট নিয়ে কীভাবে বড় কিছু করব!
কিন্তু অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, অর্থ কম থাকলেও সৃজনশীলতা আর কৌশল থাকলে ঠিকই বড় প্রভাব ফেলা যায়। আমি দেখেছি, অনেক সময় বড় বাজেটের চেয়েও বুদ্ধিদীপ্ত এবং হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া একটা আইডিয়া বেশি কাজ করে। মনে আছে, একবার একটি স্থানীয় আর্ট গ্যালারির জন্য কাজ করছিলাম, তাদের প্রচারের জন্য প্রায় কোনো বাজেটই ছিল না। তখন আমরা স্থানীয় ব্লগার, ফটোগ্রাফার এবং শিল্পপ্রেমীদের নিয়ে একটি ছোট ইভেন্টের আয়োজন করি। এই ইভেন্টের ছবি এবং গল্পগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে, গ্যালারিটি রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটাই হলো কম বাজেটে বড় প্রভাব ফেলার জাদু—সঠিক মানুষকে সঠিক বার্তা দিয়ে সংযুক্ত করা।
নিজের গল্প নিজেই বলুন
কম বাজেটে জনসংযোগ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আপনার নিজের গল্প নিজেই বলা। আমার নিজের ব্লগ পোস্টগুলো এর সেরা উদাহরণ। আমি কোনো বিজ্ঞাপনের জন্য টাকা খরচ করি না, কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা আর জ্ঞান শেয়ার করে আমি আমার পাঠকদের কাছে পৌঁছাই। একইভাবে, অনেক ছোট ব্যবসাও তাদের পণ্য বা সেবা নিয়ে নিজেদের গল্প বলতে পারে। তারা ব্লগ লিখতে পারে, ছোট ভিডিও তৈরি করতে পারে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের জার্নি শেয়ার করতে পারে। মনে আছে, একবার একজন গৃহিণী তার হাতে তৈরি গহনা বিক্রি করার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি কিভাবে নিজের হাতে সুন্দর গহনা তৈরি করেন, প্রতিটি ডিজাইনের পেছনের গল্প কি—এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তার নিজের হাতে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করি। এই ভিডিওগুলো এতটাই আবেগপ্রবণ ছিল যে, অল্প সময়েই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং তার ব্যবসা দ্রুত বাড়তে থাকে। মানুষ গল্পের সঙ্গে সহজেই সংযোগ স্থাপন করে।
স্থানীয় মিডিয়া ও কমিউনিটির শক্তি
বাজেট কম থাকলে স্থানীয় মিডিয়া এবং কমিউনিটির শক্তিকে কাজে লাগানো যেতে পারে। জাতীয় পর্যায়ের মিডিয়াতে জায়গা পাওয়া কঠিন হলেও, স্থানীয় সংবাদপত্র, রেডিও স্টেশন বা স্থানীয় অনলাইন পোর্টালগুলো প্রায়ই স্থানীয় গল্প খুঁজতে থাকে। আমি যখন ছোট কোনো ব্যবসার জন্য কাজ করি, তখন প্রথমে স্থানীয় মিডিয়াকে টার্গেট করি। তাদের কাছে স্থানীয় গুরুত্বের এমন কোনো খবর পাঠাই, যা তাদের পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক। এছাড়া, স্থানীয় কমিউনিটি ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ করা বা স্থানীয় চ্যারিটি সংস্থার সঙ্গে কাজ করাও ব্র্যান্ডের জন্য ভালো প্রচার বয়ে আনে। এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু প্রচারই হয় না, বরং ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থা এবং ভালোবাসা তৈরি হয়। আমার মতে, স্থানীয়ভাবে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে পারলে, ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়েও ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়ে।
글을마치며
বন্ধুরা, জনসংযোগের এই গতিশীল দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে শুধু নতুন কৌশল শিখলেই চলবে না, তার সঙ্গে চাই একটু সাহস আর অফুরন্ত সৃজনশীলতা। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, যখন আপনি মন থেকে মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন, তখনই আসল জাদুটা ঘটে, আপনার বার্তাটি সহজে মানুষের কাছে পৌঁছায়। মনে রাখবেন, প্রতিটি ব্র্যান্ডের পেছনে একটা আবেগঘন গল্প থাকে, আর সেই গল্পটা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের কাজ। আশা করি, আমার এই আলোচনা আপনাদের জনসংযোগের যাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং আপনারা আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারবেন। এই নতুন নতুন তথ্য আর কৌশলগুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনারা যেন নিজেদের ব্র্যান্ডকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, সেই শুভকামনা রইল সকলের জন্য!
알াা두면 쓸মোলা তথ্য
1. আপনার লক্ষ্য দর্শক কোথায় সক্রিয়, সেই প্ল্যাটফর্মেই বেশি মনোযোগ দিন। সব জায়গায় ছড়িয়ে না পড়ে সুনির্দিষ্ট স্থানে ফোকাস করুন এবং সেখানেই আপনার সেরা প্রচেষ্টা ব্যয় করুন।
2. শুধু তথ্য না দিয়ে, এমনভাবে আপনার ব্র্যান্ড বা পণ্যকে উপস্থাপন করুন যেন তা মানুষের মনে এক গভীর ছাপ ফেলে। আবেগপ্রবণ গল্প মানুষকে আপনার বার্তা মনে রাখতে সাহায্য করে।
3. সাংবাদিকদের সাথে একটি ব্যক্তিগত ও পারস্পরিক সুবিধার সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তাদের প্রয়োজন বুঝুন এবং সম্মান দিন, দেখবেন তারাও আপনাকে তাদের কাজের ক্ষেত্রে আন্তরিকভাবে সাহায্য করবে।
4. সংকটকালীন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা এবং দ্রুত পদক্ষেপ খুবই জরুরি। ভুল হলে দ্বিধা না করে স্বীকার করুন এবং দ্রুত সমাধানের পথ দেখান। এতে মানুষের আস্থা বজায় থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
5. আপনার জনসংযোগ কার্যক্রমের ফলাফল নিয়মিত পরিমাপ করুন। কোন কৌশল কাজ করছে আর কোনটা করছে না, তা ডেটা বিশ্লেষণ করে বের করুন এবং সেই অনুযায়ী আপনার কৌশল পরিবর্তন করুন, যা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল দেবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে
আধুনিক জনসংযোগ কেবল খবরের কাগজ নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও সমান জরুরি এবং এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
সঠিক প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন, ডেটা বিশ্লেষণ এবং লক্ষ্য দর্শকদের বোঝার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করা সম্ভব।
আবেগপ্রবণ ও বিশ্বাসযোগ্য গল্প বলার মাধ্যমে ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো যায় এবং একটি শক্তিশালী সংযোগ তৈরি হয়।
মিডিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা এবং সংকটকালীন সময়ে স্বচ্ছ ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে এবং সঠিক ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে ব্র্যান্ডকে আরও উজ্জ্বল করা যায়।
জনসংযোগের সুফল পরিমাপের জন্য সঠিক মেট্রিক্স নির্বাচন ও নিয়মিত ডেটা বিশ্লেষণ অপরিহার্য, যা ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণে সাহায্য করে।
কম বাজেটেও সৃজনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা এবং স্থানীয় মিডিয়া ও কমিউনিটির শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বড় প্রভাব ফেলা সম্ভব।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ভিড়ে, আমার ব্র্যান্ড বা বার্তার জন্য কোনটা সেরা হবে, সেটা কীভাবে বুঝবো?
উ: এই প্রশ্নটা সত্যি বলতে কি আমিও আমার কেরিয়ারের শুরুর দিকে অনেক ভুগেছি! মনে হতো, এতো কিছু থাকতে কোনটা ছেড়ে কোনটা ধরবো। তবে একটা জিনিস বুঝেছি, সবার আগে জানতে হবে আপনার বার্তাটা কাদের জন্য। ভাবুন তো একবার, আপনি যদি গ্রামের কৃষকদের জন্য একটা নতুন সার নিয়ে কথা বলতে চান, তাহলে হয়তো ফেসবুক লাইভের চেয়ে স্থানীয় রেডিও বা কোনো জনপ্রিয় কৃষি ম্যাগাজিন বেশি কার্যকর হবে। আবার যদি আপনি তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করেন, তাহলে ইনস্টাগ্রাম রিলস বা ইউটিউব ভিডিও আপনার জন্য সোনায় সোহাগা হতে পারে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, প্রথমে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সকে চিনুন। তারা কী দেখেন, কী পড়েন, কোথায় বেশি সময় কাটান—এইসব জেনে একটা তালিকা করুন। তারপর দেখুন আপনার বাজেটের সঙ্গে কোনটা খাপ খায়। কারণ সব প্ল্যাটফর্মে সমানভাবে কাজ করতে যাওয়াটা কিন্তু অনেক সময় বুমেরাং হয়। অল্প কিছু প্ল্যাটফর্মে মন দিয়ে কাজ করলে ফলটা অনেক ভালো হয়, বিশ্বাস করুন!
যেমন, আমি যখন আমার ব্লগ শুরু করি, তখন শুধু ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামেই বেশি ফোকাস করেছিলাম, কারণ আমার পাঠক ওখানেই বেশি ছিল। এতে আমার কনটেন্ট রিচ যেমন বেড়েছিল, তেমনি আমার পাঠকদের সঙ্গে একটা গভীর সংযোগও তৈরি হয়েছিল।
প্র: আমার ব্র্যান্ডের বার্তাটা সাধারণ মানুষের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য আর আকর্ষণীয় করে তোলার উপায় কী?
উ: আহা, এটা তো পিআর-এর আসল চ্যালেঞ্জ, তাই না? খালি খবর ছাপিয়ে দিলেই তো হবে না, মানুষকে বিশ্বাস করাতে হবে! আমি দেখেছি, সবচেয়ে ভালো কাজ করে গল্প বলা। ভাবুন তো, শুধু তথ্য দিয়ে ভরিয়ে না দিয়ে যদি আপনি আপনার ব্র্যান্ডের পেছনে থাকা সত্যিকারের গল্পটা বলতে পারেন?
কারা এটা তৈরি করছেন, কী উদ্দেশ্যে করছেন, এর থেকে মানুষের কী উপকার হচ্ছে—এইসব যখন একজন মানুষ নিজের চোখে দেখে বা আপনার মুখে শোনে, তখন একটা ইমোশনাল কানেকশন তৈরি হয়। যেমন, আমি একবার একটা ছোট ব্যবসার জন্য কাজ করছিলাম, যারা হাতে তৈরি পণ্য বানাতো। আমরা শুধু পণ্যের ছবি না দিয়ে, সেই কারিগরদের জীবনযাত্রা, তাদের হাতের ছোঁয়া, আর পণ্যের পেছনে থাকা পরিশ্রমের গল্পগুলো তুলে ধরেছিলাম। বিশ্বাস করুন, তার ফল ছিল অবিশ্বাস্য!
মানুষ কেবল পণ্য কেনেনি, একটা আস্থাও গড়ে তুলেছিল। আরেকটা জিনিস হলো, স্বচ্ছতা। কোনো কিছু গোপন না করে সব কিছু পরিষ্কারভাবে তুলে ধরলে মানুষের ভরসা বাড়ে। আর সবশেষে, ইন্টারেকশন!
আপনার অডিয়েন্সের সঙ্গে কথা বলুন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিন, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন। এতে তারা নিজেদেরকে আপনার ব্র্যান্ডের একটা অংশ ভাবতে শুরু করবে। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই আপনার বার্তাকে অনেক বেশি শক্তিশালী আর বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।
প্র: সোশ্যাল মিডিয়া বা প্রচলিত মিডিয়ার জন্য কি আলাদা আলাদা ধরনের গল্প বা কন্টেন্ট তৈরি করা উচিত?
উ: হ্যাঁ, অবশ্যই! এটা একটা ভুল ধারণা যে, একই কন্টেন্ট সব জায়গায় চালিয়ে দিলে হবে। আমি তো বলি, এটা রীতিমতো একটা অপরাধ! দেখুন, সোশ্যাল মিডিয়া আর প্রচলিত মিডিয়া দুটোর কাজের ধরন আর দর্শক সম্পূর্ণ আলাদা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ আসে বিনোদনের জন্য, দ্রুত তথ্য চায়, ছবি বা ভিডিও দেখতে পছন্দ করে আর ইন্টারেকশন করতে চায়। এখানে কন্টেন্ট হতে হবে শর্ট, ক্রিস্পি, ভিজ্যুয়ালি অ্যাপিলিং আর এনগেজিং। লাইভ ভিডিও, পোল, কুইজ—এগুলো এখানে দারুণ কাজ করে। ভাবুন তো, ইনস্টাগ্রামে একটা দীর্ঘ প্রবন্ধ কেউ পড়বে কি?
একেবারেই না! সেখানে বড়জোর একটা সুন্দর ছবি আর কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থাকলেই চলে। অন্যদিকে, প্রচলিত মিডিয়া, যেমন সংবাদপত্র বা টেলিভিশন, একটু গভীর তথ্য বা বিশ্লেষণের জন্য। এখানে লম্বা লেখা, বিস্তারিত সাক্ষাৎকার বা ডকুমেন্টারি বেশি কার্যকর। এর দর্শক হয়তো একটু বেশি ধৈর্যশীল। যেমন, আমি আমার একটা প্রোডাক্ট লঞ্চের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছোট ছোট টিজার ভিডিও আর ইনফোগ্রাফিক ব্যবহার করেছিলাম। আর একই সঙ্গে, কিছু প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রোডাক্টের ফিচার আর সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আর্টিকেল ছাপিয়েছিলাম। দুটোর রেজাল্টই অসাধারণ ছিল, কারণ আমি প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে কন্টেন্ট সাজিয়েছিলাম। তাই, আপনার কন্টেন্টের মূল বার্তা এক হলেও, সেটাকে পরিবেশনের ভঙ্গি অবশ্যই প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী পরিবর্তন করা উচিত। এতে আপনার পরিশ্রমের ফল অনেক বেশি মিষ্টি হবে।






